প্রিন্ট এর তারিখঃ May 23, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 18, 2026 ইং
কুষ্টিয়ায় রুহুল ফিলিং স্টেশনে স্বস্তির বাতাস সংকটেও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: মো. মুনজুরুল ইসলাম
জ্বালানি সংকটের দোলাচলে যখন বিপর্যস্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চল, তখন কুষ্টিয়ায় এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে রুহুল ফিলিং স্টেশন। বিরতিহীনভাবে জ্বালানি সরবরাহ কার্যক্রম চালিয়ে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটি হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক, স্বস্তির এক নির্ভরযোগ্য ঠিকানা।
ভোরের আলো ফোটার আগেই স্টেশনটির সামনে শুরু হয় মানুষের ভিড়। মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি যেন এক নিত্যদিনের চিত্র—অফিসগামী কর্মজীবী মানুষ, জরুরি কাজে বের হওয়া চালক কিংবা পেশাজীবী—সবার লক্ষ্য একটাই, নিশ্চিত জ্বালানি সংগ্রহ। তবে এই দীর্ঘ সারির মধ্যেও চোখে পড়ে শৃঙ্খলা ও গতিশীলতা, যা অন্য অনেক পাম্পের তুলনায় একেবারেই ভিন্ন অভিজ্ঞতা তৈরি করছে।
স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, জ্বালানি সরবরাহে যেন কোনো বিঘ্ন না ঘটে, সে লক্ষ্যে তারা দিনরাত নিরলসভাবে কাজ করছেন। পর্যাপ্ত মজুদ নিশ্চিত করা, দ্রুত সেবা প্রদান এবং কর্মীদের দায়িত্বশীল আচরণ—এই তিনটি বিষয়ই তাদের কার্যক্রমকে করেছে কার্যকর ও প্রশংসনীয়। ফলে দীর্ঘ সারি থাকলেও গ্রাহকদের অপেক্ষার সময় তুলনামূলকভাবে কমে এসেছে।
মোটরসাইকেল চালক রাশেদুল ইসলাম জানান,“আগে বিভিন্ন পাম্পে ঘুরেও তেল পেতাম না। এখন অন্তত এখানে এসে নিশ্চিতভাবে তেল পাচ্ছি—এটাই সবচেয়ে বড় স্বস্তি।”
২০২৬ সালের এপ্রিলজুড়ে কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। অনেক পাম্প বন্ধ থাকায় যেসব স্টেশন খোলা রয়েছে, সেখানে উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। কোথাও কোথাও রেশনিং পদ্ধতিতে ১০০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি অ্যাপ রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।
এই সংকটের মধ্যেই রুহুল ফিলিং স্টেশন তাদের সুশৃঙ্খল ও ধারাবাহিক কার্যক্রমের মাধ্যমে আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছে। যদিও মাঝে মাঝে জ্বালানি সংগ্রহকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বা ছোটখাটো সংঘাতের খবর পাওয়া গেছে, তবুও সার্বিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে কুষ্টিয়ার সামগ্রিক অর্থনীতিতেও। নতুন মোটরসাইকেল বিক্রিতে ধস নেমেছে, শোরুমগুলোতে কমেছে ক্রেতার উপস্থিতি। পরিবহন ব্যবস্থাতেও দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। এমন বাস্তবতায় নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ শুধু একটি সেবা নয়—এটি হয়ে উঠেছে জীবনযাত্রার এক অপরিহার্য সহায়ক শক্তি।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, রুহুল ফিলিং স্টেশনের এই উদ্যোগ অন্যদের জন্য একটি অনুসরণযোগ্য মডেল হতে পারে। তারা আশা করছেন, অন্যান্য পাম্পগুলোও যদি একইভাবে পরিকল্পিত ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে, তবে জ্বালানি খাতে চলমান সংকট অনেকাংশে লাঘব সম্ভব।
কুষ্টিয়ার ব্যস্ত জনজীবনে তাই আজ একটিই নাম উচ্চারিত হচ্ছে স্বস্তির প্রতীক হিসেবে—রুহুল ফিলিং স্টেশন। সংকটের এই কঠিন সময়ে নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিয়ে তারা যেন প্রমাণ করেছে, সঠিক ব্যবস্থাপনা ও দায়বদ্ধতা থাকলে যেকোনো প্রতিকূলতাকেই জয় করা সম্ভব।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ এস কে টিভি বিডি